আমরিকা, ওপিটি ও এইচওয়ানবি

সবাই পিএইচডি মাস্টার্স করতে আমেরিকা আসতে চায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই যেকথাগুলো বলা হয় না, তা হচ্ছে শিক্ষা পরবর্তী চাকরীর কথা। চাকুরীর বাজার নিয়ে যদিও প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু ইমিগ্রান্ট হিসেবে চাকুরি পাওয়ার সম্ভাব্যতা এবং এ সংক্রান্ত নিয়ম কানুন নিয়ে তেমন কিছু চোখে পড়েনি। মোটামুটি অধিকাংশ বাংলাদেশি  F-1 ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসে, যা হচ্ছে ছাত্রত্ত ভিসা। F-1 ছাড়াও রয়েছে J-1, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে আসা ছাত্র ছাত্রীরা। বলে রাখি, F-2 ভিসায় চাকুরি করা না গেলেও, J-2 ভিসায় কাজ করা যায়। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ৬৫ হাজার ইমিগ্রান্টকে চাকুরিতে নেয় লটারির মাধ্যমে। তবে এর মধ্যে ১০,০০০ বাদ দিয়ে রাখা ভাল, সিঙ্গাপুর আর চিলির সাথে বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তি আছে, সেটার আওতায় কয়েক হাজার অভিবাসীকে চাকরিতে নেওয়া হয়। সাথে আরও ২০ হার জনের কোটা মাস্টার্স ছাত্রদের জন্য। এই ৮৫ হাজার হচ্ছে ফর প্রফিট বা মুনাফার জন্য কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থার জন্য।

নট ফর প্রফিট বা নন-প্রফিট গ্রুপের জন্য কোন কোটা নেই ( এর মধ্যে NGO University ইত্যাদি রয়েছে)। এখানে বলে রাখি, প্রতিষ্ঠান আপনার হয়ে কর্মসংস্থান ভিসার আপিল করবে। for- profit প্রতিষ্ঠানসমূহের আপিলের সময় ১ এপ্রিল সশুরু হয়। কিন্তু প্রথম সপ্তাহে মোটামুটি সব কাজ শেষ করে সবাই, ২০০৮ সালে ৫ দিনের জন্য আবেদনপত্র নেওয়া হয়েছিল। ইমিগ্রেশনে যুক্ত আইনজীবীরা সাধারণত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আপিল করার পরামর্শ  দিয়ে থাকে।  নন- প্রফিট এর জন্য কোন নির্ধারিত সময় নেই।  যেকোনো সময় আপিল করা যায়, এক মাত্র কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তা করতে পারে।  লটারির ফলাফল দিতে প্রায় অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এবং নিয়োগের সম্পূর্ণ  কাজ শেষ করতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগে। ১লা অক্টোবরের আগে কর্মসংস্থান ভিসায় কাজ করা যায় না।

কোম্পানি চাইলেই যে লটারিতে যাবে তা নয়। কোম্পানিকে নিম্নলিখিত জিনিসের ব্যবস্থা করতে হবে –

১। প্রথমে দেখাতে হবে আপনার যোগ্যতা সম্পন্ন লোক যুক্তরাষ্ট্রে নেই।

২। সকল ফর্ম কোম্পানি কর্তৃক পূরণ ও দাখিল করতে হবে।

৩। মাস্টার্স বা ব্যাচেলর পর্যায়ের চাকুরিতে পিএইচডি যোগ্যতাসম্পন্ন কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

৪। পুরো প্রস্তুতিতে কোম্পানিকে প্রায় ২৫০০ ডলার খরচ করতে হবে।

আরও জানতে পারবেন লিঙ্ক এক এবং দুইতে

এখন সমস্যা সমূহের কথা বলা যাক। প্রথমত  প্রতিষ্ঠান চাইলেই আপনাকে নিতে পারবে না। পুরো বিষয়টির পূর্বে প্রস্তুতির ব্যাপার আসে। বড় কোম্পানি ( উদাহরণ ইন্টেল) হলে ভিন্ন কথা, বিশ্ববিদ্যালয়য়ের কোন নিয়োগ হলে অন্য কথা।  ছোট কোম্পানিগুলো এজন্য অনেকক্ষেত্রে নিয়োগ দিতে চায় না।

দ্বিতীয় চাকরি না পেলে কি করবেন? যদি দেশে চলে যেতে না চান তবে ওপিটি (optional practical training) এর আওতায় ১২ মাস (স্টেম বিষয়ের ক্ষেত্রে ২৯ মাস) কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পাস করার ন্যূনতম দুই মাস আগে এর জন্য আবেদন করতে বলা হয়।

এখানে একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার। ওটিপি এমন সময়ে শেষ করার উচিত যাতে তা কোনভাবে অক্টোবরের আগে না হয়। কারণ আপনি এইচওয়ানবি ভিসায় কাজ করতে পারবেন ১লা অক্টোবর থেকে।

পরের সমস্যা আপনাকে নিয়োগের সময় নিয়োগকর্তাকে দেখাতে হবে সেই পদে নিয়োগ দেবার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতাসম্পন্ন কেউ নেই। পরের বিষয় মাস্টার্স পাস করা কোন পদের জন্য পিএইচডি লাভকারী কাউকে নেওয়া যাবে না।

timeline

ওপিটি এর কথায় একটু আসা যাক। ওপিটিতে থাকা অবস্থায় চাকুরি থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। ১২ মাস অথবা ২৯ যেকোন ক্ষেত্রেই মোট ৬০ দিন বেকার থাকা যাবে। এটা সর্বমোট হিসাব। যদি চাকরি না পান তবে সেক্ষেত্রে আপনি চাকরির চেষ্টা করছে সে সংক্রান্ত কাগজ সাথে রাখতে হবে (ঊদাহরণঃ চাকরির আবেদন, ইন্টারভিউ এর ইমেল ইত্যাদি)। ওপিটি মূলত দুই ধরনের পড়ালেখা করা অবস্থায় এবং পাস করার পরবর্তী সময়ে। কিন্তু মোট সময় হিসাব হবে সবসময় ১২ বা ২৯ মাস। সাময়িক বা পার্টটাইম হলে সময় অর্ধেক হিসাব করা হয় অর্থাৎ যদি পার্টটাইম ৪ মাস হয় তবে দুই মাস হিসাব করা হবে। নাকি থাকবে ১২ মাস। এই দুই মাস পাস করার আগে হোক আর পরে হোক মূল ওপিটি থেকে বাদ যাবে যা কিনা ১২ মাস বা ২৯ মাস।

ওপিটি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে লিঙ্ক এক, দুই, তিনচারে ক্লিক করতে পারেন।

এইচওয়ানবি ভিসাতে কোটার আবার বিভিন্ন ক্যাটেগরী আছে, তা ব্যাখ্যা পরবর্তীতে করবো আপাতত লিঙ্ক দিয়ে রাখছি। এই লিঙ্কে পাওয়া যাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর্তৃক প্রকাশিত মাসিক ভিসা বুলেটিন। এছাড়াও এইচওয়ানবি সম্পর্কিত সরকারি ওয়েবসাইটে অন্যান্য তথ্য পাবেন।

non profit থেকে profit, profit থেকে non-profit ভিসায় যাবার ঝামেলা রয়েছে। সেসম্পর্কে বিস্তারিত অন্য একদিন। এই পোস্টটি আগামী সপ্তাহে সম্পাদনা করা হবে।

Advertisements

One thought on “আমরিকা, ওপিটি ও এইচওয়ানবি

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s